# Tags

বরিশাল ইউনিয়ন সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ মিজানুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম নজীর এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের মশিউর রহমান রানা,আশফুল ইসলাম,আশিকুর রহমান, জোহা মিয়া ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ রেখা বেগমসহ ৫জন ইউপি সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত উক্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল মরো-এর যোগসাজশে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম এককভাবে পরিচালনা করে আসছেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—ভিজিএফ, ভিজিডি, গর্ভবতী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, হতদরিদ্র কর্মসূচি, কাবিখা-কাবিটা, ননওয়েজ প্রকল্প, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, এবং নির্বাচিত সদস্যদের পরিষদের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপি সভাপতি আঃ সামাদ মন্ডল মরো’র ইচ্ছানুযায়ী সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এছাড়া, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেখা বেগমের অজান্তে তাঁর নাম ব্যবহার করে গোপনে একটি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাকে প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজ না পড়তে দিয়ে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উক্ত টাকা আত্মসাত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব মিজানুর রহমান রেখা বেগমকে বলেন, “আগামীতে আরও কাজ আসবে, চিন্তা করবেন না, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপনাকেও কাজ দেওয়া হবে।”
এমন আশ্বাসে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে রেখা বেগমসহ আরও পাঁচজন ইউপি সদস্য সচিবের কাছে রেজুলেশন দেখতে চাইলে সচিব জানান, “চেয়ারম্যান ছাড়া কোনো রেজুলেশন রেজিস্টার দেখানো যাবে না।”

পরে কিছুক্ষণ পর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল মরো ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে সদস্যদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অভিযোগে উল্লেখ আছে, তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে সদস্যদের অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন, এবং বিকেল ৪টার দিকে অফিস বন্ধ করে সচিবকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আঃ সামাদ মন্ডল মরো’র প্রত্যক্ষ প্রভাবে সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম নিজেদের মতো করে পরিচালনা করছেন, ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় অভিযোগকারীরা পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন—
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সচিব মিজানুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নজীরের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।